বাংলাদেশে সংযোগ বিচ্ছিন্নের পরও ৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল!!!

শুভ বার্তা ডেস্কঃ-
১০ ফেব্রুয়ারী ২০২২ইং, সময়ঃ ২২:৩৫ মিনিট
ছবিঃ সংগৃহিত

 

বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকা মিটারে আসছে ভৌতিক বিদ্যুৎ বিল! সেই বিল থেকে মুক্তির জন্য ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নের কৃষক মো. সাইফুল ইসলাম ঘুরছেন এ দপ্তর থেকে ঐ দপ্তরের টেবিলে। সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা মিটারে ডিসেম্বর পর্যন্ত “বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড” গৌরীপুর বিদ্যুৎ সরবরাহের কার্যালয় থেকে দেওয়া হয়েছে ৮ লাখ ৮৮ হাজার ৫৩৩ টাকার বিল। উৎকণ্ঠায় পুরো পরিবার!

 

এর আগেও উপজেলার ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামের আলাল উদ্দিনের পুত্র মুদি দোকানি মো. হেলাল উদ্দিনকে ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে ৯ লাখ ২৪ হাজার ৩২৭ টাকার বিদ্যুৎ বিল প্রদান করা হয়। এ ঘটনাটি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। তদন্ত আর নানা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঐ মুদি দোকানি রেহাই পেতে না পেতেই এবার খড়গ নামল কৃষকের ঘাড়ে।

সরেজমিন ও দালিলিক কাগজপত্রে দেখা যায়, বেকারকান্দা গ্রামের মৃত মীর হোসেনের পুত্র মো. সাইফুল ইসলাম একজন কৃষক। তিনি নিজের জমিতে পানি উত্তোলনের জন্য সেচ লাইন গ্রহণ করেন। তার সেচ মিটার নং ই-২৮৬৯৪০, গ্রাহক নং ৭৫৭৪৪৫৩৮, হিসাব নং ৩১৩/৪২৯৪। তার এ মিটারের নামে ২০১৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ৩৫ হাজার ২৪ টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তৎকালীন আবাসিক প্রকৌশলী (সহঃপ্রকৌ) মো. তহুর উদ্দিন। ঐ কর্মকর্তা ঐ বছরই ময়মনসিংহের বিদ্যুৎ আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ কৃষকের নামে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরেও অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে সেচপাম্প দিয়ে পানি উত্তোলনের ঘটনায় মামলা দায়ের করেন। ঐ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে জানা যায়, কৃষক মো. সাইফুল ইসলামকে ২২ হাজার ৫০৪ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করার পরও বিদ্যুৎ বিভাগের দেওয়া ২৩ হাজার ২০০ ইউনিটের বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের ৩৫ হাজার ৮৭ টাকা এবং আদালতের ধার্যকৃত জরিমানা ১ হাজার ৮ টাকা ও বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্নের আরসি/ডিসির জন্য ৬শ টাকা।

বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেও ৭৯৫ ইউনিট বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল প্রদানে বাধ্য হন এই কৃষক। এরপর থেকেই ওই বিদ্যুৎ মিটারটি তারবিহীন অবস্থায় বিদ্যুতের খুঁটিতে মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। এ প্রসঙ্গে কৃষক মো. সাইফুল ইসলাম দেশের গণমাধ্যমকে জানান যে- “গৌরীপুর আবাসিক প্রকৌশলী বরাবর ভৌতিক বিদ্যুৎ থেকে মুক্তির জন্য আবেদন করেছি। কোনো সমাধান দেননি।এখন কি করবো? কোথায় যাবো কিছুই বুঝতে পারছি না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *