একজন মোশাররফ হোসেন রুবেল এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা!!!
একটি মন্তব্য প্রতিবেদনঃ-
শুভ বার্তা অনলাইন ডেস্কঃ-
ছবিঃ সংগৃহীত
দীর্ঘ দিন ধরেই ক্যান্সারের সাথে লড়ে অবশেষে গতকাল না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান বাঁ-হাতি স্পিনার মোশাররফ হোসেন রুবেল, ইন্না…রাজিউন। মোশাররফ হোসেন রুবেলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট অঙ্গন সহ পুরো দেশে।
জনপ্রিয় ক্রিকেটার মোশাররফ হোসেন রুবেল চলে গেলেন না ফেরার দেশে। পেছনে রেখে গেলেন বাবা-মা, ভাই-বোন, স্ত্রী, অবুঝ শিশু সন্তান, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী, অজস্র ভক্ত ও তার নিজের কৃর্তিগুলো। একদিন সবাইকে এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতেই হবে – এটা চিরন্তন সত্য। কিন্তু তারপরও কিছু কিছু চলে যাওয়া অর্থাৎ মৃত্যু সত্যিই খুবই দুঃখজনক ও বেদনা দায়ক।
মোশাররফ হোসেন রুবেলের অবুঝ শিশু সন্তানটির ছবির দিকে তাকানোই যায় না। এ বয়সেই বাচ্চাটি তারা সবচেয়ে আপন ও নির্ভরযোগ্য মানুষ প্রাণপ্রিয় পিতাকে হারালো। সারা জীবন ওর কাছে এরচেয়ে বড় দুঃখ কিংবা কষ্টের আর কি হতে পারে, বলুন? মহান রব আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন যেন সুপ্রিয় ক্রিকেটার মোশাররফ হোসেন রুবেলকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।আমিন।
উল্লেখ্য যে- ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়েছিলেন সাবেক এই বাঁ-হাতি স্পিনার। সফল অস্ত্রোপচার হলেও পরে ইনফেকশন হয়ে যায়। সেখান থেকে বাসা বাধে ক্যান্সার। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে গত ১৪ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসা গ্রহণ করে মোটামুটি সুস্থ হয়েই গত ১৫ এপ্রিল বাসায় ফেরেন তিনি।

তবে বাসায় থাকা অবস্থায় হুট করে আবারো অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। টিউমারের জটিল চিকিৎসা কার্যক্রমের কারণে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন তিনি। খাওয়া-দাওয়াও ঠিকমত করতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত সব কিছু ব্যর্থ করে দিয়ে গতকালই না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি।
পরিসংখ্যান মতে- মোশাররফ হোসেন রুবেল বাংলাদেশ জাতীয় দলের জার্সিতে পাঁচটি ওয়ানডে খেলেছেন। ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তার ওয়ানডে অভিষেক। এছাড়া ১১২টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলে ৩৯২ উইকেট নিয়েছেন তিনি। লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলেছেন ১০৪টি। উইকেট ১২০টি।
একজন মানুষের তার জীবনের সবকিছুর ইতি সম্ভবত ঘটে তার মৃত্যুতে। এ কথাটি যেমন সত্য, ঠিক তেমনি সত্য যে- একজন মানুষ কিন্তু যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকেন তার কৃতকর্মের মধ্য দিয়েই। ক্রিকেটার মোশাররফ হোসেন রুবেলও যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকুন তার অজস্র-অগণিত ভক্ত-সমর্থকদের মাঝে তার রেখে যাওয়া অমর কৃর্তিগুলো দিয়েই। কেননা, “কৃর্তিমানের যে কখনো কোন মৃত্যু নেই।”
লেখকঃ-
মোঃ সাহাব উদ্দিন
সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

